নামাজ সম্পর্কিত আলোচনা

 

নামাযের গুরুত্ব

নামায দ্বীন ইসলামের অন্যতম মূল স্তম্ভ, বান্দার জন্য আল্লাহ পাকের দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার, বিশ্বাসের দলিল, পুণ্য কাজের মূল, সর্বোত্তম ইবাদত, বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়কারী, মুক্তি ও নাজাতের পূর্বশর্ত এবং ঈমানের অতন্দ্র প্রহরী। নামাযে আল্লাহ তায়ালা ও বান্দার মাঝে এক অতি মহিমান্বিত, অতুলনীয় ও বিস্ময়কর মধুর সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। নামাযের গুরুত্ব বুঝতে হলে প্রথমে মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে একথা স্বীকৃত যে, মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ। 

 নামায বিশুদ্ধ করার গুরুত্ব

শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান মর্যাদাসহ জীবন যাপনের জন্য মানুষকে তার স্রষ্টার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। যোগাযোগের অন্যতম উপায় হল নামায। কোন কাজ বিশুদ্ধভাবে করার অর্থ হলো নিয়মনীতি অনুসরণ করে কাজটি করা। নিয়মনীতির বাইরে যা কিছু তা হলো ভেজাল বা দোষ ত্রুটি যুক্ত কাজ। তা ঈপ্সিত ফল দেয় না। রোগী যদি ডাক্তারের নির্দেশমত ঔষধ পথ্য ব্যবহার না করে তাহলে অসুখ ভাল হয় না। চার্জিং সিস্টেমের সামান্য গন্ডগোল রেখে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যায় না। রাষ্ট্রদূত যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে সময়মতো, নিয়মমতো যোগাযোগ না করেন তা হলে তিনি কাজ উদ্ধার করতে পারেন না ইত্যাদি। নামাযের জন্যও রয়েছে অনেক নিয়ম কানুন ও নীতি পদ্ধতি। এসব অনুসরণ করে নামায পড়া হলো বিশুদ্ধভাবে নামায পড়া। নামায বিশুদ্ধ না হলে আমরা নামাযের ফল পাব না।



মুসলমানদের জীবনে নামাযের আশাপ্রদ ফল অর্জন না হওয়ার ৪টি কারণ হলোঃ

  • নামাযের সূরা, দুআ, তাসবীহ'র সঠিক উচ্চারণ বা ক্বেরাত বিশুদ্ধ না হওয়া।
  • নামাযের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-কানুন বা মাসলা মাসায়েল সম্পর্কে অজ্ঞতা।
  • নামাযে পাঠকৃত সূরা, দুআ, তাসবীহ'র অর্থ ও তাৎপর্য না জানা।
  • নামাযের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ না করা।

নামাযের নির্ধারিত ফলাফল পাওয়ার জন্য সব ধরনের ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন করতে হবে।


 নামাযে মনোযোগের গুরুত্ব

মনোযোগ বলতে মনকে নিবিষ্ট করে কোন কাজ করা বুঝায়। মন এক বিচিত্র জিনিস। এর আচরণ ও প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল। মানুষ অনেক কাজই করে কিন্তু সব কাজে মন থাকে না। সেসব কাজে মজাও পায় না। যে সব বিষয়ে মানুষ মজা পায় অনেক বাধা ও সমস্যাতেও নিজ আগ্রহে সেসব কাজে সে লেগে থাকে এবং কাজটি স্থায়ী হয়। অন্যদিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিন্তু মজা না লাগলে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায় না। সে কাজ সে নিজে থেকে করেও না এবং কাজটি স্থায়ীও হয় না। নামায ইসলামের মৌলিক ইবাদত সমূহের অন্যতম। সাবালেগ হবার পর থেকে আমৃত্যু এটা ফরয হিসাবে অবশ্য পালনীয়। দিন-রাত, কাজ-কর্ম বা অবসর কখনও নামায ছাড়া যায় না। এ ধরনের একটি কাজে যদি মনোযোগ না থাকে তাহলে মজা পাওয়া যায় না। ফলে তা দূর্বহ ও ব্যর্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং নামাযের ফায়দা পেতে হলে মনকে অবশ্যই নামাযে নিবিষ্ট ও স্থির রাখতে হবে।

নামাযে মনোযোগ সৃষ্টির উপায়


মন কোন হাতে ধরার মত জিনিস নয়। আমরা তাকে ধমক দিয়ে, শাসন করে, বন্দী করে রাখতে পারি না। মন যে কাজে কিভাবে করলে মন মজা পাবে সেটা খুবই জটিল ও পরিবর্তশীল। যাহোক মনকে নামাযে রাখার কলাকৌশল সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো।

নামাযের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা

নামাযের গুরুত্ব সম্বন্ধে প্রথমেই যা জানা প্রয়োজন তাহলোঃ

নামায একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত। আনুষ্ঠানিক মানে ইংরেজিতে ফরমাল বা অফিসিয়াল। যে কাজ (ক) কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে (খ) দিন তারিখ সময় এজেন্ডা নির্দিষ্ট থাকে (গ) যারা উপস্থিত থাকার কথা তারা উপস্থিত না থাকলে দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়। সেটা হলো আনুষ্ঠানিক কাজ।

নামাযেরও রয়েছে আনুষ্ঠানিকতার এসব বৈশিষ্ট্য। যেমন- নামায মহান আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করেছেন, নামাযের রয়েছে নির্দিষ্ট সময়, রাকাত সংখ্যা ও করণীয় বিষয় এবং নামাযে উপস্থিত না হলে রয়েছে শাস্তির ব্যবস্থা।

নামাযের গুরুত্ব সম্বন্ধে অগনিত বিষয়াদী রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো।

নামায আল্লাহ তায়ালার দাসত্বের/আনুগত্যের আনুষ্ঠানিক প্রমাণঃ

  • প্রত্যেক সৃষ্টির পেছনে স্রষ্টার একটি উদ্দেশ্য থাকে।
  • সৃষ্টির প্রধান কাজ স্রষ্টার গোলামী ও দাসত্ব করা।
  • সৃষ্টি কখনও নিজ থেকে জানে না যে কিভাবে স্রষ্টার দাসত্ব করবে? এটা স্রষ্টাই নির্ধারণ করেন।
  • নামাযের নিয়মকানুন অতি সহজেই প্রমাণ করে যে নামাযী ব্যক্তি আল্লাহর গোলামী করছে।


নামায আল্লাহর প্রশংসা করা ও নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতিঃ


  • সৃষ্টির স্বভাব হলো সে স্রষ্টার প্রশংসা করবে।
  • মানুষও চায় আল্লাহর প্রশংসা করতে ও তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া করতে।
  • মানুষ নিজ থেকে আল্লাহকে প্রশংসা করার নিয়ম পথ পদ্ধতি জানে না।
  • নামাযে সানাসহ ক্বিরাত, তসবীহসমূহের মাধ্যমে বান্দা অতি উত্তমভাবে আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করে।

নামায আল্লাহর কাছে কৃত যাবতীয় অপরাধ ও গাফলতির জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগঃ

  • সৃষ্টির থাকে নানাবিধ সীমাবদ্ধতা। আবার তা মেরামতের ব্যবস্থাও থাকে। যে জিনিস যত মূল্যবান, যত মর্যাদাবান তার মেরামতের ব্যবস্থা তত জরুরী।
  • মানুষেরও সীমাহীন সীমাবদ্ধতা। প্রতিনিয়ত সে অগণিত অসংখ্য ভুল করে, অন্যায় করে।
  • মানুষকে পাপমুক্ত করা মেরামত করা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হওয়ার ওয়ার্কশপ হলো নামায।
  • নামাযের সূরা, দুআ, তাসবীহতে সরাসরি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। আবার নামায শেষে দুআতেও মাফ চাওয়ার বিশেষ সুযোগ আছে।

নামায আল্লাহর স্মরণের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম/উপায়ঃ

  • মানুষ প্রতিনিয়ত কাজের ব্যস্ততায় আল্লাহকে স্মরণ করার কথা ভুলে যায়। আল্লাহকে ভুলে গেলে সে অভিভাবকহীন এবং পরিচয়হীন হয়ে যাবে।
  • নামাযের মাধ্যমে আমাদের মনে আল্লাহর ভয় ভালবাসা সৃষ্টি হয়। তাঁর কথা স্মরণ রাখা সম্ভব হয়।নামায আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়
  • নামায আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়
  • নামায দ্বীন ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ
  • নামায মুসলিম ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য
  • নামায বিচার দিবসে প্রথম জিজ্ঞাসার বিষয়
  • নামায পুরুষ-মহিলা, ধনী-গরীব, সুস্থ-অসুস্থ সবার জন্য প্রযোজ্য
  • নামায সর্বাধিকবার ও আজীবনের জন্য প্রযোজ্য
  • নামায অতীব সাধারণ, সহজ, প্রাকৃতিক ও চমৎকার বিষয়
  • তাকবীরে তাহরীমা থেকে শুরু করে সালাম ফিরানো পর্যন্ত অন্যান্য সকল হালাল বিষয়ও হারাম হয়ে যায়।
  • সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য- তারা নামাযের হেফাজত করে
  • নামায জান্নাতের চাবি
  • নামায চক্ষুর শীতলতা ও প্রাণের শান্তি
  • নামায জাহান্নাম হারাম করে
  • নামায কিয়ামতের দিনের নূর, ঈমানের দলিল, বাঁচার অছিলা
  • নামায আল্লাহর জিম্মাদারীতে চলে যাওয়ার সুযোগ
  • নামাযী ব্যক্তি তার দৈনন্দিন কার্যকলাপ পাঁচ ওয়াক্তের মধ্যে সম্পাদন করে এবং সকল কাজের দায় দায়িত্ব আল্লাহর কাছে সোপর্দ করে।
  • পাঁচ ওয়াক্ত নামায এভাবে আমাদের জীবনকে আল্লাহর হেফাজতে কাটানোর বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সৃজন ক্রিয়েটিভ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url