সঠিক পদ্ধতিতে নামায আদায়


সঠিক পদ্ধতিতে নামায আদায়


সঠিক পদ্ধতিতে নামায আদায় বলতে আমরা বুঝি রাসূল (সা:) কিভাবে নামায পড়েছেন। কারণ রাসূল (সা:) এর নামাযই হলো একশতভাগ সঠিক।

রাসূল (সা:) এর নামাযকে অনুসরণ করতে হলে আমাদেরকে নির্ভর করতে হবে রাসূল (সা:) এর সাহাবীদের উপর। যেহেতু আমরা সাহাবীদের সংস্পর্শে আসতে পারছিনা। সুতরাং সাহাবীদের অনুসারী- তাবেঈন এবং তাবেঈনদের অনুসারী- তাবে-তাবেঈনদের শরণাপন্ন হতে হবে। এক্ষেত্রে স্থান, ভাষা, সময়, ব্যক্তি ইত্যাদি নানা কারণে নামাযের খুঁটিনাটি বিষয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। সঠিক ভাবে নামায আদায়কারীরা এসব মতপার্থক্য নিয়ে বিরোধে লিপ্ত হবে না। আবার অন্ধভাবেও কোন প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করবে না। নামাযের পদ্ধতিগত বিষয়ে সঠিক নিয়ম জানতে হবে এবং পরিষ্কারভাবে সঠিক নিয়মটি হস্তগত হওয়ার পরে আগের ভুল অভ্যাস পরিত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

নামাযের ফরজ ও ওয়াজিব সমূহ


নামাযের ফরজ সমূহ নামাযের ওয়াজিব সমূহ
শরীর পাক তাকবীরে তাহরিমায় আল্লাহু আকবার বলা
কাপড় পাক সূরা ফাতিহা পাঠ
নামাযের জায়গা পাক সূরা ফাতিহার সঙ্গে একটি সূরা মিলানো
ছতর ঢাকা উচ্চস্বরের জায়গায় উচ্চস্বরে এবং নিম্নস্বরের জায়গায় নিম্নস্বরে ক্বিরাত পড়া।
নামাযের নিয়ত করা রুকুতে স্থির থাকা
ওয়াক্তমত নামায পড়া রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো
কিবলামুখী হয়ে নামায পড়া সিজদাতে স্থির থাকা
তাকবীরে তাহরীমা বলা প্রথম সিজদার পর স্থির হয়ে বসা
দাঁড়িয়ে নামায পড়া দ্বিতীয় রাকাতের পরে বসা অথবা বৈঠক করা
ক্বিরাত পাঠ প্রতি বৈঠকে তাশাহুদ পড়া
রুকু করা বিতর নামাযে দোয়া কুনুত পাঠ
সিজদা করা ফরজ ওয়াজিবকে নিজ নিজ স্থানে আদায় করা
শেষ বৈঠক করা আসসালামু আলাইকুম বলে নামায শেষ করা
বিঃদ্র: নামাযের মধ্যে কোন একটি ফরজ বাদ গেলে নামায পুনরায় পড়তে হয়। বি:দ্র:নামাযের মধ্যে কোন একটি ওয়াজিব বাদ গেলে সুহু সেজদা দিয়ে নামায সম্পন্ন করতে হয়।

নামাযের সুন্নত সমূহ

    • দু'পায়ের মাঝে কমপক্ষে চার আঙ্গুল ফাঁকা রেখে দাঁড়ানো
    • তাকবীরে তাহরিমার সময় হাত দুই কানের লতি পর্যন্ত উঠানো
    • ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে তাহরিমা বাঁধা
    • ছানা পড়া
    • কিরআতের পূর্বে আউযুবিল্লাহ পড়া
    • প্রত্যেক নামাযের প্রথম রাকাতে বিসমিল্লাহ পড়া
    • সূরা ফাতিহার পর আমীন বলা
    • তাহমীদ (সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ) পাঠ
    • তাকবীর বলা
    • রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়া
    • রুকুতে দুই হাঁটু শক্ত করে ধরা
    • রুকুতে পিঠ, মাথা ও কোমর সমান করে রাখা
    • সিজদায় পায়ের গোঁড়ালী খাড়া করে রাখা
    • বসা অবস্থায় বাম পা বিছিয়ে দেওয়া ডান পা খাড়া রাখা
    • শেষ বৈঠকে দরুদ পড়া
    • প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে সালাম ফিরানো।

    বিঃ দ্রঃ নামাযের মধ্যে কোন সুন্নত বাদ গেলে সওয়াব কম হয় তবে নামায পুনরায় পড়তে হয় না বা সুহু সেজদা লাগে না।


    নামায শেষে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দোয়া করা


      • ২৪ ঘন্টায় অন্তত একবার লম্বা দোয়ার অভ্যাস করা উচিত।
      • বাদ ফজর সারাদিনের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা পেশ করে তা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্যআল্লাহ তায়ালার সাহায্য চাওয়া দরকার।
      • প্রত্যেক ফরজ নামায শেষে এবং শেষ রাতে, তাহাজ্জুদ শেষে, সেজদায়, ভাল কাজ শেষে, মুসাফির ও অসুস্থ অবস্থায় ইত্যাদিতে দুআ করা দুআ কবুলের বিশেষ সুযোগ থাকে।
      • বাদ এশা সারাদিনের কাজের পর্যালোচনাসহ সকল সাফল্যের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া এবং সকল ভুলভ্রান্তির জন্য তাঁর ক্ষমা ভিক্ষা করা উচিত।
      • সপ্তাহের সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং জুম্মার দিনে বাদ আসর থেকে মাগরীব পর্যন্ত দুআ কবুলের বিশেষ সময়।

      একটি আদর্শ দুআর বিষয়সমূহঃ

      • আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা দুআ কবুল হওয়ার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।সূরা ফাতিহার শুরুতে আমাদেরকে তাঁর প্রশংসার বাণী শিক্ষা দিয়েছেন। এখানে আল্লাহর ৩টি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ আছে। সেজন্যে কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর অনেক গুণাবলী সম্পন্ন নামসমূহকে উচ্চারণ এবং অর্থসহ বইয়ের শেষে সংযুক্ত করা হইল।
      • রাসূলুল্লাহ (সা:) এর উপর দরুদ পাঠ
      • আল্লাহ তায়ালার কাছে সকল ভুল ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা
      • সকল কাজে সাফল্য ও সকল কল্যাণের জন্য একান্তভাবে তাঁর সাহায্য সহযোগীতার  আবদার জানানো। ছোট মনে করে কোন বিষয় তাঁর কাছে বলতে অবহেলা বা সংকোচ না করা
      • সকল বিষয় তাঁর দায়িত্ব বা হাওয়ালা করা
      • আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুল (সাঃ) এর উপর দরুদ পাঠ

      অন্যদেরকে নামাযি বানানোর প্রচেষ্টা

      • পরিবার থেকে শুরু করুন স্ত্রী, সন্তানাদি
      • প্রতিবেশী, সহকর্মীদের ব্যাপারে নজর দিন
      • প্রতিষ্ঠান/ পাড়া/ মহল্লা বা এলাকাবাসীদের জন্য ব্যবস্থা নিন

      নামাযের শিক্ষা সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা

      • আল্লাহ ভয় ভালবাসা ও ভক্তি সৃষ্টি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন
      • সময় জ্ঞান ও নিয়মানুবর্তিতা
      • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্র জীবন যাপনের অভ্যাস
      • শরীর মন সুস্থ সবল ও কর্মচঞ্চল রাখে
      • মুসলমানদের মধ্যে একতা ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি
      • নিয়মিত কুরআন পাঠ ও কুরআনের শিক্ষা লাভ
      • মন্দ অশ্লীল ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে প্রতিরক্ষা
      • কৃতজ্ঞ, ভদ্র, নম্র, বিনয়ী ও আজ্ঞানুবর্তী হওয়া
      • ধৈর্য ও অল্পে তুষ্টি
      • সৎ, সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ ও সাহসী হওয়া
      • অহংকার, অধৈর্য, কাপুরুষতা থেকে মুক্ত হওয়া
      • জ্ঞান, কাজকর্ম ও আচার আচরণে অবিরাম উন্নতি ও উৎকর্ষ লাভ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সৃজন ক্রিয়েটিভ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url